হাওজা নিউজ এজেন্সি: তেহরানের জুমার নামাজের খুতবায় হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আবু তোরাবি-ফার্দ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক আগ্রাসন এবং এর মোকাবিলায় ইরান ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের কার্যকর অবস্থান প্রমাণ করেছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশল ব্যর্থতার মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা, আঞ্চলিক মিত্রদের সমন্বিত প্রতিরোধ এবং হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চলে ইরানের প্রভাব শত্রুপক্ষের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও ঐক্য আরও জোরদার করা জরুরি।
জাতীয় ঐক্য রক্ষার আহ্বান
জনাআ আবু তোরাবি-ফার্দ জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকে ইরানের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শত্রুরা সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও জনগণের প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
তাঁর মতে, জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ঐক্য শক্তিশালী করা এবং ধর্মীয় ও জাতীয় সংহতি রক্ষা করা এ ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
ইয়েমেনের অবরোধ অবসানের দাবি
তেহরানের জুমার খতিব ইয়েমেনের ওপর চলমান অবরোধের অবসানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পশ্চিমা শক্তি, আমেরিকা ও ইসরায়েলকে আঞ্চলিক বাস্তবতা এবং জনগণের অধিকার ও মর্যাদাকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক জনগণের অধিকার ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা প্রয়োজন।
আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব
তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি নিজেদের মর্যাদা ও সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আঞ্চলিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, মুসলিম দেশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব
খুতবায় ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। আবুতোরাবিফার্দ বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদন, রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এ কারণে সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি ইরানে নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তিনি এ খাতে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।
তার মতে, জাতীয় ঐক্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধিই ইরানকে বহিরাগত চাপ মোকাবিলা করে স্বাধীন ও শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
আপনার কমেন্ট